তারুণ্যের প্রথম ভোট মুক্তিযুদ্ধের পক্ষেই হোক

42

আগামী ৩০ ডিসেম্বর একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। নির্বাচনকে ঘিরে বাংলাদেশ এখন দুই ভাগে বিভক্ত। একপক্ষে মুক্তিযুদ্ধ আর উন্নয়ন। অন্যপক্ষে যুদ্ধাপরাধী আর তাদের মদদদাতারা। যাদের হাতে দেশ গেলে শাসনের বদলে শোষণের জাঁতাকলে পড়তে হয়। গত ১০ বছরের উন্নয়নের ধারা বদলে দিয়েছে বাংলাদেশকে। পদ্মা সেতু, মেট্রোরেল, রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুত কেন্দ্র, পায়রা কয়লাচালিত বিদ্যুত কেন্দ্র, ডিজিটাল বাংলাদেশের ছোঁয়া বিশে^ নতুন এক বাংলাদেশকে পরিচিত করেছে। শুধু বিশ^ কেন বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইটের মাধ্যমে মহাকাশে নিজের নতুন ঠিকানা তৈরি করেছে বাংলাদেশ। খাদ্য উৎপাদন, চিকিৎসা, স্বাস্থ্য, নারীর ক্ষমতায়নে বাংলাদেশের এগিয়ে যাওয়ার গল্পই বলেন অর্থনীতিবিদরা। মাত্র ১০ বছরে বাংলাদেশের উন্নয়ন দেখে অন্য অনগ্রসর দেশগুলোও বলছে বাংলাদেশকেই তাদের অনুসরণ করা উচিত। এখন বাংলাদেশের মানুষ স্বপ্ন দেখছে উন্নত বিশে^র কাতারে শামিল হওয়ার। সঙ্গত কারণে সিদ্ধান্ত গ্রহণের ভার আপনাদের হাতেই।

কি করবেন ৩০ ডিসেম্বর উন্নয়নের এই ধারাকে অব্যাহত রাখবেন নাকি বাংলাদেশকে আবার পিছিয়ে দেবেন। দেশের তরুণ ভোটার থেকে শুরু করে প্রত্যেক বাংলাদেশীকে আহ্বান জানিয়েছেন তারকা ভোটাররা। জনপ্রিয়তার শীর্ষে থাকা সুবর্ণা মোস্তফা থেকে শুরু করে আমাদের সকলের প্রিয় সাকিব আল হাসান বলেছেন দেশকে এগিয়ে নিতে শেখ হাসিনার বিকল্প নেই। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বিশ^ দরবারে বাংলাদেশকে নতুন মর্যাদার আসনে বসিয়ে দিয়েছেন। এই অগ্রগতির ধারা অব্যাহত রাখতে চিত্রনায়ক রিয়াজ, ফেরদৌস, জাহিদ হাসান, শমী কায়সার সবাই ভোট চেয়েছেন নৌকার পক্ষে। তাদের আহ্বানে সাড়া দিলে আপনার বাংলাদেশ হবে আপনার মনের মতো। বিশ^বাসীর কাছে মাথা উঁচু করে বলতে পারবেন আমি বাংলাদেশের মানুষ বলেই আমি গর্ব করি।

সাকিব আল হাসান ॥ নৌকার পক্ষে তারুণ্যের জোয়ার সৃষ্টির প্রথম আহ্বান এসেছিলে বিশ^ সেরা অলরাউন্ডার সাকিব আল হাসানের কাছ থেকে। হঠাৎই এমন আহ্বানে সবাই একটু অবাকই হয়েছিলেন। কিন্তু বাংলাদেশ টেস্টে আর টি-টোয়েন্টি ক্রিকেদের অধিনায়ক সাকিবের সেই ভিডিও দেখে অনেকেই হয়ত ভাবলেন কেন আমরাও নৌকার পক্ষে শেখ হাসিনার পক্ষে ভোট চাইছি না। দেশকে এগিয়ে নিতে শেখ হাসিনার বিকল্প কেউ এখনও তৈরি হননি। সঙ্গত কারণে তার পক্ষে ভোট চাওয়াটাই স্বাভাবিক। বাংলাদেশ ক্রিকেটের প্রাণ সাকিব আল হাসানকে অনুসরণ করেছেন অন্যরাও।

সাকিব আল হাসান প্রথম আহ্বান জানান সেখানে বলেন, ১৯৯৯ থেকে ২০০৪। আমরা ৭২টি ম্যাচ দেশের হয়ে খেলেছি। বেশিরভাগই হেরেছি। কিন্তু আমাদের আত্মবিশ্বাস ছিল, আমরা জিততে চেয়েছিলাম। কারণ এটা শুধু আমাদের কাছে খেলা নয়, দেশের সম্মান। এ জন্যই আমরা ঘুরে দাঁড়াতে পেরেছিলাম।

আমি এখনও যখন ক্রিজে গিয়ে দাঁড়াই, আমার সঙ্গে দাঁড়ায় বাংলাদেশ। আমি যখন শুরু করেছিলাম, আমার বয়স ছিল ১৯ বছর। এই বয়সে আমি ক্রিকেট শুরু করেছিলাম। তরুণদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, আজ তোমরা যারা তরুণ, আমি নিশ্চিত জানি তোমাদের প্রত্যেকের মধ্যেই স্বপ্ন আছে। কিন্তু শুধু স্বপ্ন থাকলেই হবে না। ব্যক্তির স্বপ্নকে দেশের স্বপ্ন করতে হয়। এগিয়ে আসতে হয়, তৈরি করতে হয় নিজেকে। চিনে নিতে হয় সঠিক পথ।

তিনি বলেন, আমি কোন সুপার ম্যান নই। এ দেশেরই একজন সাধারণ মানুষ। তোমরা যারা এখানে আছ, আমি জানি সবাই যার যার মতো আলাদা। কিন্তু একটা বিষয়ে আমরা সবাই এক। সেটা হলো আমাদের প্রাণের বাংলাদেশ।

এ দেশকে আমরা ভালবাসি। কিন্তু নিজের মাকে নিয়ে আমরা যেভাবে ভাবি, দেশ নিয়ে কী সেভাবে ভাবি? অথচ দেশ কিন্তু আমাদের নিয়ে ভাবছে। নজর রাখছে ভাল-মন্দের। তার ভাল থাকায় আমাদেরও ভাল থাকা। আর সবার ভাল থাকা মানেই দেশের ভাল থাকা। তাই তাকে নিয়ে (দেশ) এবার ভাবার সময় এসেছে। কারণ দেশ মানে আর কিছু নয়, আমি-তুমি-আমরা।

এই আমরাই দেশ। দেশের মানুষকে ভাল রাখার, এগিয়ে যাওয়ার দুর্বার যাত্রায় বর্তমান সরকার বিদ্যুত, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, খাদ্য, নারীর ক্ষমতায়ন, সামাজিক ও মানব উন্নয়ন, অবকাঠামো উন্নয়ন, যোগাযোগ এবং ডিজিটাল অগ্রগতিতে বাংলাদেশ বিশ্বে উদাহরণ হতে চলেছে।

বর্তমান সরকারের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পরিবারের সবাইকে হারিয়ে দেশকে জেতানোর লড়াইয়ে শামিল হয়েছেন। বাংলাদেশটাই এখন তার পরিবার। সবাইকে সঙ্গে নিয়ে দেশের মানুষের ভাল থাকার জন্য কাজ করে যাচ্ছেন তিনি। বিশেষ করে তরুণদের নিয়ে। সব ক্ষেত্রেই সমৃদ্ধ আগামীর বাংলাদেশ গড়ার নীতি গ্রহণ করেছেন তিনি। তরুণদের আহ্বান জানিয়ে সাকিব বলেন, সেখানে চাই তোমাদের সক্রিয় অংশগ্রহণ। এ অগ্রযাত্রাকে বহুদূর এগিয়ে নিতে তোমাদের সক্রিয় সমর্থন প্রয়োজন। আমার বিশ্বাস, আমরা দাঁড়ালে হারবে না দেশ। কারণ তরুণরাই আগামীর বাংলাদেশ। এবার তোমার পালা।

সুবর্ণা মোস্তফা ॥ এদের মধ্যে অভিনেত্রী সুবর্ণা মোস্তফা শেখ হাসিনার জন্য ভোট চাইতে গিয়ে বলেন, একটি দেশ কত উন্নত। একটি দেশের জনপদ কত সমৃদ্ধ সেটি নির্ভর করে সে দেশের সংস্কৃতির ওপর। সংস্কৃতি ঋদ্ধ যত উন্নত সেই জাতি তত সমৃদ্ধ হয়। আমাদের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এই বিষয়টি অন্তর দিয়ে উপলব্ধি করেন। শেখ হাসিনা বারবারই প্রমাণ করেন উনি আওয়ামী লীগের সভানেত্রী তো বটেই উনি বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী। বাংলাদেশের জনগণ ওনার সন্তানের মতো। পুরো পরিবার তিনি হারিয়েছেন। উনি নিজে কতবার যে জীবনের হুমকির সম্মুখীন হয়েছেন। রাজনৈতিকভাবে দীক্ষিত, যদি দুজনের নাম বলি আমি তাহলে একজন অবশ্যই শেখ হাসিনা। পারিবারিকভাবে এই দীক্ষা তার ভেতরে ছিল। সুতরাং সামনের দিনগুলোতে আমি শেখ হাসিনাকেই বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দেখতে চাই। উন্নয়ন আর অগ্রগতির ধারা অব্যাহত রাখতে আমরা সবাই শেখ হাসিনার পক্ষে।

রিয়াজ ॥ চিত্র নায়ক রিয়াজ নৌকার জন্য ভোট চেয়ে বলেন, জাতির পিতার সোনার বাংলা গড়ার স্বপ্ন আজ জননেত্রী শেখ হাসিনার হাত ধরে বাস্তবে রূপ নিতে যাচ্ছে। বিগত ১০ বছরে অনেক উন্নতি হয়েছে বাংলাদেশের। আজকে পদ্মা সেতু দৃশ্যমান। মেট্রোরেলের পিলার আমরা ঢাকায় দেখতে পাই। শিক্ষা, অর্থনীতি সব জায়গায় ব্যাপক উন্নতির বিপ্লব আমরা লক্ষ্য করিছি। এ সবই হয়েছে জননেত্রী শেখ হাসিনার হাত ধরে। উন্নয়ন ও সমৃদ্ধিকে অব্যাহত রাখতে আমি রিয়াজ নৌকায় ভোট দেব। সকলকে আহ্বান জানিয়ে রিয়াজ বলেন, আপনারা যারা উন্নয়ন এবং অগ্রগতি চান আপনারাও নৌকায় ভোট দেবেন। সবাই মিলে একটি সুন্দর বাংলাদেশ আগামীর বাংলাদেশ গড়ে তুলব।

ফেরদৌস ॥ চিত্র নায়ক ফেরদৌস ৩০ ডিসেম্বর নৌকায় ভোট দেয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেছেন, তারুণ্যের প্রথম ভোট, মুক্তিযুদ্ধের পক্ষেই হোক। এই যে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে, উন্নয়নের পক্ষের বিষয়গুলো ওদের কাছে পরিষ্কার করতে হবে। উন্নয়নের যে ধারাবাহিকতা চলছে সরকার পরিবর্তন হলে তা ‘বন্ধ হয়ে যাবে’ বলে মন্তব্য করেন ফেরদৌস। তিনি বলেন, বাংলাদেশের উন্নয়ন দেখার জন্য এখন বড় কোন প-িত হওয়ার প্রয়োজন নেই। আমরা চোখ খোলা রাখলেই দেখতে পারি, চারিদিকে কী উন্নয়ন। কিন্তু উন্নয়নগুলো বন্ধ হয়ে যাবে, যদি বর্তমান সরকার ক্ষমতায় না আসে। তিনি বলেন, অন্য কোন সরকার এলে শুধু নিজেদের গোছাতেই তাদের ২০ বছর লেগে যাবে।

জাহিদ হাসান ॥ নাট্য অভিনেতা জাহিদ হাসান বলেন, আমরা অনেক কনফিডেন্টলি মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়েছি এই নৌকা মার্কার কারণেই। আমরা যখন দেশের বাইরে যাই তখন গর্বের সঙ্গে বলি আমাদের প্রধানমন্ত্রী দেশটাকে অনেক দূর এগিয়ে নিয়ে গেছে। আমরা একটি মহাসড়কে যাত্রা করছি, এর গন্তব্য যেন আরও ভাল জায়গায় চলে যায় সেই প্রত্যাশায় আমাদের নৌকার সঙ্গে থাকতে হবে।

শমী কায়সার ॥ অভিনেত্রী শমী কায়সার বলেন, আমার মা ছিলেন সংসদ সদস্য এবং আমার বাবা ছিলেন একজন বুদ্ধিজীবী। তারা দেশকে যেভাবে ভালবাসা দিয়েছেন আমি হয়ত সেভাবে দিতে পারব না। জীবনের শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত মুক্তিযুদ্ধের চেতনা নিজের মধ্যে ধারণ করে আওয়ামী লীগের হয়ে রাজনীতি করতে চাই। বাংলাদেশের সার্বিক উন্নয়নের জন্য আওয়ামী লীগের অনেক সময় ক্ষমতায় থাকা প্রয়োজন বলে মনে করেন এই অভিনেত্রী।

Comments are closed.